পবিত্রতা
অজু করার নিয়ম: ধাপে ধাপে নির্দেশিকা
Sakinah Editorial · ৪ মিনিটে পড়া
সুন্নত তরিকায় অজু করার নিয়ম, অজুর ফরজ এবং কী কী কারণে অজু ভেঙে যায় — কুরআন ও হাদিসের আলোকে জেনে নিন।
নামাজ, কুরআন শরিফ স্পর্শ করাসহ বিভিন্ন ইবাদতের আগে পবিত্রতা অর্জনের জন্য নির্দিষ্ট নিয়মে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ধোয়াকে অজু বলে। আল্লাহ তাআলা বলেন: হে মুমিনগণ, যখন তোমরা নামাজের জন্য দাঁড়াও, তখন তোমাদের মুখমণ্ডল ও কনুই পর্যন্ত হাত ধৌত করো, মাথা মাসেহ করো এবং টাখনু পর্যন্ত পা ধৌত করো (সুরা মায়েদা ৫:৬)।
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, যে ব্যক্তি অজু করে এবং উত্তমরূপে অজু করে, তার শরীর থেকে গুনাহ বের হয়ে যায়, এমনকি নখের নিচ থেকেও (সহিহ মুসলিম ২৪৫)।
শুরু করার আগে
- পবিত্র পানি ব্যবহার করুন এবং খেয়াল রাখুন, নেইলপলিশ বা মোটা রঙের মতো কোনো কিছু যেন ত্বকে পানি পৌঁছাতে বাধা না দেয়।
- আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য পবিত্রতা অর্জনের নিয়ত মনে মনে করুন।
- বিসমিল্লাহ বলে শুরু করুন।
ধাপে ধাপে অজু
- দুই হাত কবজি পর্যন্ত তিনবার ধুয়ে নিন এবং আঙুলের ফাঁকে পানি পৌঁছান।
- তিনবার কুলি করুন। মিসওয়াক করা সুন্নত (সহিহ বুখারি ৮৮৭)।
- তিনবার নাকে পানি দিন এবং বাঁ হাত দিয়ে নাক ঝেড়ে পরিষ্কার করুন।
- মুখমণ্ডল তিনবার ধুয়ে নিন — কপালের চুলের গোড়া থেকে থুতনির নিচ পর্যন্ত এবং এক কানের লতি থেকে অন্য কানের লতি পর্যন্ত। ঘন দাড়ি থাকলে ভেজা আঙুল দিয়ে খিলাল করুন।
- দুই হাত কনুইসহ তিনবার ধুয়ে নিন, প্রথমে ডান হাত, তারপর বাঁ হাত।
- মাথা মাসেহ করুন — ভেজা হাত কপালের দিক থেকে পেছনে নিয়ে আবার সামনে ফিরিয়ে আনুন।
- কান মাসেহ করুন — শাহাদাত আঙুল দিয়ে কানের ভেতরের অংশ এবং বুড়ো আঙুল দিয়ে পেছনের অংশ।
- দুই পা টাখনুসহ তিনবার ধুয়ে নিন, প্রথমে ডান পা, এবং আঙুলের ফাঁকগুলো ভালোভাবে পরিষ্কার করুন।
ক্রমানুসারে, লম্বা বিরতি না দিয়ে এবং প্রতিটি অঙ্গ তিনবার করে ধোয়াই রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর অজুর পদ্ধতি (সহিহ বুখারি ১৫৯)।
অজুর পর দোয়া
পড়ুন: আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু, ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসুলুহু। রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, যে ব্যক্তি উত্তমরূপে অজু করে এই দোয়া পড়ে, তার জন্য জান্নাতের আটটি দরজা খুলে দেওয়া হয় (সহিহ মুসলিম ২৩৪)।
অজুর ফরজ
বাংলাদেশের অধিকাংশ মুসলমান যে হানাফি মাজহাব অনুসরণ করেন, সে অনুযায়ী সুরা মায়েদার ৬ নম্বর আয়াতের আলোকে অজুর ফরজ চারটি: মুখমণ্ডল ধোয়া, দুই হাত কনুইসহ ধোয়া, মাথার এক-চতুর্থাংশ মাসেহ করা এবং দুই পা টাখনুসহ ধোয়া। বাকি কাজগুলো সুন্নত। অন্যান্য মাজহাবে নিয়ত, ধারাবাহিকতা বা একটানা ধোয়াকেও ফরজ গণ্য করা হয়, তাই প্রতিটি ধাপ যত্নের সঙ্গে পালন করাই উত্তম।
যেসব কারণে অজু ভেঙে যায়
- পেশাব-পায়খানার রাস্তা দিয়ে কোনো কিছু বের হওয়া, বায়ু নির্গত হওয়াসহ।
- শুয়ে বা হেলান দিয়ে এমনভাবে ঘুমানো, যাতে হুঁশ থাকে না।
- বেহুঁশ হওয়া বা নেশাগ্রস্ত হয়ে জ্ঞান হারানো।
- হানাফি মাজহাব অনুযায়ী আরও: শরীরের কোনো স্থান থেকে রক্ত বা পুঁজ বের হয়ে গড়িয়ে পড়া, মুখ ভরে বমি হওয়া এবং নামাজে শব্দ করে হাসা।
অজু ভেঙেছে কি না সন্দেহ হলে মূলনীতি হলো অজু বহাল আছে। নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত নামাজ ছেড়ে দেবেন না (সহিহ বুখারি ১৩৭)।
অজু শুধু শারীরিক পরিচ্ছন্নতা নয়, আত্মিক সতেজতাও। ধীরে-সুস্থে, মনোযোগ দিয়ে অজু করুন এবং মনে রাখুন — প্রতিটি ফোঁটা পানির সঙ্গে গুনাহ ঝরে যেতে পারে।