যাকাত
যাকাতের মৌলিক বিধান: কে দেবেন, কত দেবেন, কাকে দেবেন
Sakinah Editorial · ৪ মিনিটে পড়া
নিসাব, এক বছর পূর্ণ হওয়ার শর্ত, ২.৫% হার এবং কুরআনে বর্ণিত যাকাতের আটটি খাত — একটি সহজ উদাহরণসহ বুঝে নিন।
যাকাত ইসলামের তৃতীয় স্তম্ভ। কুরআনের বহু আয়াতে নামাজের সঙ্গে যাকাতের কথা এসেছে, যেমন: নামাজ কায়েম করো এবং যাকাত আদায় করো (সুরা বাকারা ২:৪৩)। যাকাত শব্দের অর্থ পবিত্রতা ও বৃদ্ধি — যাকাত সম্পদ ও অন্তর দুটোকেই পবিত্র করে। রাসুলুল্লাহ ﷺ নিশ্চয়তা দিয়েছেন, দান-সদকা সম্পদ কমায় না (সহিহ মুসলিম ২৫৮৮)।
কার ওপর যাকাত ফরজ?
যে প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন মুসলমান মৌলিক প্রয়োজন ও পরিশোধযোগ্য ঋণ বাদ দিয়ে নিসাব পরিমাণ বা তার বেশি সম্পদের মালিক এবং সেই সম্পদের ওপর পূর্ণ এক চান্দ্রবছর (হাওল) অতিবাহিত হয়েছে, তার ওপর যাকাত ফরজ।
নিসাব
- সোনা: ৮৭.৪৮ গ্রাম (সাড়ে ৭ ভরি)।
- রুপা: ৬১২.৩৬ গ্রাম (সাড়ে ৫২ ভরি)।
কারও কাছে সোনা, রুপা, নগদ টাকা ও ব্যবসায়িক পণ্য মিলিয়ে সম্পদ থাকলে বাংলাদেশের অনেক আলেম রুপার নিসাব ধরে হিসাব করার পরামর্শ দেন, কারণ তা পরিমাণে কম এবং গরিবদের জন্য বেশি উপকারী। টাকায় নিসাবের পরিমাণ জানতে সোনা বা রুপার বর্তমান বাজারদর দেখে নিন।
কোন কোন সম্পদে যাকাত দিতে হয়?
- সোনা ও রুপা, ব্যবহারের অলংকারসহ (হানাফি মাজহাব অনুযায়ী)।
- নগদ টাকা, ব্যাংকে জমা, সঞ্চয়পত্র এবং অন্যকে দেওয়া ঋণ, যা ফেরত পাওয়ার আশা আছে।
- ব্যবসার মালামাল ও বিক্রির উদ্দেশ্যে কেনা পণ্য।
- শেয়ার ও অন্যান্য বিনিয়োগ, সেগুলোর ধরন অনুযায়ী।
বসবাসের বাড়ি, ব্যক্তিগত গাড়ি, আসবাবপত্র, পরিধেয় পোশাক ও কাজের যন্ত্রপাতির ওপর যাকাত নেই।
এক বছরের শর্ত ও যাকাতের হার
সম্পদ প্রথম যেদিন নিসাব পরিমাণে পৌঁছায়, সেই হিজরি তারিখটি লিখে রাখুন। এক চান্দ্রবছর পর সেই তারিখেও যদি নিসাব পরিমাণ সম্পদ থাকে, তাহলে আপনার মোট যাকাতযোগ্য সম্পদের ২.৫% (চল্লিশ ভাগের এক ভাগ) যাকাত দিন। হানাফি মাজহাব অনুযায়ী বছরের শুরু ও শেষে নিসাব থাকলে মাঝখানের ওঠানামা ধর্তব্য নয়।
একটি সহজ উদাহরণ
রহিম সাহেবের ব্যাংকে ৩,০০,০০০ টাকা এবং ২,০০,০০০ টাকা মূল্যের সোনার গয়না আছে, পরিশোধযোগ্য কোনো ঋণ নেই। তার মোট যাকাতযোগ্য সম্পদ ৫,০০,০০০ টাকা, যা নিসাবের চেয়ে বেশি। তার যাকাত হবে ৫,০০,০০০ × ২.৫% = ১২,৫০০ টাকা।
যাকাত কারা পাবেন?
সুরা তাওবার ৬০ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা যাকাতের আটটি খাত নির্ধারণ করে দিয়েছেন:
- ফকির (দরিদ্র)।
- মিসকিন (অভাবগ্রস্ত)।
- যাকাত আদায় ও বণ্টনের কাজে নিয়োজিত কর্মী।
- যাদের অন্তর ইসলামের দিকে আকৃষ্ট করা প্রয়োজন।
- দাসমুক্তি।
- ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি।
- আল্লাহর পথে।
- বিপদগ্রস্ত মুসাফির।
নিজের মা-বাবা, দাদা-দাদি, নানা-নানি, সন্তান, নাতি-নাতনি এবং স্বামী বা স্ত্রীকে যাকাত দেওয়া যায় না। তবে ভাই-বোনের মতো অভাবী অন্য আত্মীয়দের যাকাত দেওয়া জায়েজ, এবং এতে দ্বিগুণ সওয়াব — দানের সওয়াব ও আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষার সওয়াব (জামে তিরমিজি ৬৫৮)।
ব্যবসা, কৃষি ও বিনিয়োগের মতো ক্ষেত্রে যাকাতের বিধান বিস্তারিত হতে পারে। আপনার নিজের অবস্থার জন্য একজন যোগ্য আলেমের পরামর্শ নিন।